জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
- আপলোড সময় : ০৮-১১-২০২৬ ১২:৫৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১১-২০২৬ ১২:৫৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব আলোচনায় উঠে আসে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন (পিপিএম), সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দীন মুর্শেদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ ইমরান হাসান চৌধুরী। এছাড়া বক্তব্য দেন পিপি অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য নাদীর আহমেদ, মো. রেজাউল হক, আকবর আলী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দিবসটি নতুন করে উপলব্ধি করা, জাতীয় ঐক্যের চেতনা ধারণ করা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ইতিহাস কেবল একটি জাতির ঘটনাপঞ্জি নয়, ইতিহাস হচ্ছে একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, সাহস, আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা। যে জাতি তার ইতিহাস যথাযথভাবে জানতে ও মূল্যায়ন করতে পারে, সেই জাতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে সক্ষম হয়।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তারা আরও বলেন, ওই সময় বাংলাদেশ সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মধ্যে সেনাসদস্যদের বিদ্রোহ এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সেদিনের ঘটনাপ্রবাহে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। সিপাহি জনতার সম্মিলিত প্রয়াসে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। বিপ্লব পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা ধারণ করে, আর সংহতি সেই পরিবর্তনকে সম্মিলিত শক্তি ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা জোগায়।
মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তার শাসনামলে কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা, উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য শুধু ১৯৭৫ সালের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ দিবস জাতীয় ঐক্য, পার¯পরিক সহনশীলতা, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স¤পদ তার জনগণ। জনগণের মধ্যে পার¯পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সংহতি যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্রও তত শক্তিশালী হবে।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ